১. Käferbohnensalat (অস্ট্রিয়া)


ইতিহাস ও প্রাপ্তিস্থান: এটি মূলত অস্ট্রিয়ার স্টাইরিয়া (Styria) অঞ্চলের একটি বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী সালাদ। ১৬ শতকে আমেরিকা থেকে এই বিশেষ ‘বিটল বিন’ বা স্কারলেট রানার বিন ইউরোপে আসে এবং স্টাইরিয়ার আবহাওয়ায় এটি দারুণভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
রেসিপি: সেদ্ধ করা বড় ডাল বা শিম বিচি (Käferbohnen)-র সাথে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কুচি মেশানো হয়। এরপর এর ওপর খাঁটি স্টাইরিয়ান কুমড়ো বীজের তেল (Pumpkin seed oil) এবং আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে মেখে সালাদটি তৈরি করা হয়। অনেক সময় এর সাথে সেদ্ধ ডিমও দেওয়া হয়।
পুষ্টি উপাদান: এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ফাইবার (আঁশ)-এ ভরপুর। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, পটাশিয়াম এবং কুমড়ো বীজের তেলের কারণে ভিটামিন E ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড।
যেকোনো ক্রিস্পি বা টোস্ট করা রুটি, গ্রিল করা মাংস কিংবা স্ন্যাক্স হিসেবে এটি দারুণ জমে।
২. Satsuma-age (জাপান)


ইতিহাস ও প্রাপ্তিস্থান: এটি জাপানের কাগোশিমা (প্রাচীন নাম সাতসুমা) অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ওকিনাওয়া অঞ্চল থেকে আসা এক ধরণের ভাজা ফিশ কেক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাতসুমার স্থানীয় বাসিন্দারা এটি তৈরি শুরু করেন।
রেসিপি: যেকোনো সাদা মাছের কিমা (Surimi)-র সাথে লবণ, চিনি, সয়া সস এবং সামান্য কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা হয়। এরপর ছোট ছোট গোল বা চ্যাপ্টা চপ আকৃতি দিয়ে ডুবো তেলে সোনালী করে ভেজে নেওয়া হয়।
পুষ্টি উপাদান: মাছ থেকে তৈরি হওয়ায় এতে প্রচুর পরিমাণে উচ্চমানের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। তবে তেলে ভাজার কারণে এতে ফ্যাটের পরিমাণ কিছুটা থাকে।
এটি গরম গরম সয়া সস এবং আদা বাটার সাথে স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া হয়। এছাড়াও জাপানিজ ওদোন নুডলস বা ওদেন (Oden) স্টুর সাথে এটি খুব জনপ্রিয়।
৩. Guotie / Potstickers (চীন


ইতিহাস ও প্রাপ্তিস্থান: এটি চীনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ডাম্পলিং (নর্থ চায়নাতে উৎপত্তি)। লোককথা অনুযায়ী, সং রাজবংশের এক বাবুর্চি রাজকীয় ডাম্পলিং সেদ্ধ করার সময় ভুলে তা কড়াইয়ের তলায় পুড়িয়ে ফেলেন। পরে দেখা যায় মুচমুচে তলাযুক্ত এই ডাম্পলিং খেতে অসাধারণ! এভাবেই “গুওতি” (যার অর্থ কড়াইয়ের তলা আটকে যাওয়া) বা পটস্টিকারের জন্ম।
রেসিপি: ময়দার তৈরি পাতলা লেচির ভেতর মাংসের কিমা (সাধারণত পোর্ক বা চিকেন) এবং বাঁধাকপি বা পেঁয়াজ কলির পুর ভরা হয়। এরপর কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে ডাম্পলিংগুলোর নিচের অংশ মুচমুচে করে ভাজা হয় এবং সাথে সাথে জল দিয়ে ঢেকে ভাপে সেদ্ধ করা হয়।
পুষ্টি উপাদান: এতে কার্বোহাইড্রেট (ময়দার আস্তরণ), প্রোটিন (মাংসের কিমা) এবং ফাইবার ও ভিটামিন (সবজি) এর একটি চমৎকার ভারসাম্য থাকে।
এটি সয়া সস, রাইস ভিনেগার এবং চিলি অয়েলের মিশ্রণে তৈরি সসের সাথে সবচেয়ে ভালো লাগে।
৪. Tagliatelle al ragù alla Bolognese (ইতালি)

ইতিহাস ও প্রাপ্তিস্থান: এটি ইতালির বলোনিয়া (Bologna) শহরের একটি ক্লাসিক এবং ঐতিহাসিক পাস্তা ডিশ। ১৮ শতকের শেষের দিকে এই মাংসের সস বা ‘রাগু’ (Ragù)-র প্রথম রেসিপি পাওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে এটি ভুলবশত “স্প্যাগেটি বলোনিজ” নামে পরিচিত হলেও, ইতালির আসল রেসিপিতে সবসময় চ্যাপ্টা ও ফিতাকৃতির ‘তালিয়াতাল্লে’ পাস্তা ব্যবহার করা হয়।
রেসিপি: পেঁয়াজ, গাজর ও সেলারি কুচি তেলে ভেজে তাতে গরুর মাংসের কিমা দেওয়া হয়। এরপর টমেটো পিউরি, সামান্য ওয়াইন বা ব্রথ এবং দুধ দিয়ে খুব ধিমে আঁচে ২-৩ ঘণ্টা ধরে ঘন সস (রাগু) রান্না করা হয়। শেষে ফ্রেশ সেদ্ধ তালিয়াতাল্লে পাস্তার সাথে সসটি মিশিয়ে ওপরে পারমেসান চিজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুষ্টি উপাদান: পাস্তা থেকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট এবং মাংস থেকে প্রোটিন ও আয়রন পাওয়া যায়। চিজ ও তেলের কারণে এটি বেশ ক্যালরি সমৃদ্ধ এবং শক্তিদায়ক খাবার।
এটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ খাবার। তবে এর সাথে যেকোনো ফ্রেশ গ্রিন সালাদ এবং এক টুকরো গার্লিক ব্রেড দারুণ মানিয়ে যায়।