১. Papa púrpura (পেরু)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: এটি মূলত পেরুর অ্যান্ডিজ পর্বতমালার আদিম জাতের আলু। প্রাক-হিস্পানিক (ইনকা সভ্যতার) যুগে এই বেগুনি আলু অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হতো এবং এগুলো কেবল রাজপরিবার বা যোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত থাকত।
কেন পছন্দ : এর গাঢ় বেগুনি রঙের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (অ্যান্থোসায়ানিন) স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। রান্নার পরও এর সুন্দর বেগুনি রং ঠিক থাকে এবং এর স্বাদ কিছুটা মাখনের মতো ও বাদামি (nutty) হয়।
খাবারের কম্বিনেশন: এটি কেটে মুচমুচে করে রোস্ট বা ডিপ-ফ্রাই করতে পছন্দ করে মানুষ। এছাড়া পেরুর ঐতিহ্যবাহী “Causa Rellena” (ঠান্ডা আলুর ম্যাশ, যা টুনা বা মুরগির মাংস দিয়ে স্তরে স্তরে সাজানো হয়) তৈরিতে এটি দারুণ জনপ্রিয়।
২. Patata del Fucino (ইতালি)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের ফুচিনো সমভূমি থেকে এই আলুর উৎপত্তি। একসময় এটি একটি বিশাল হ্রদ ছিল, যা পরবর্তীতে শুকিয়ে অত্যন্ত উর্বর পলিমাটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ মাটিতেই এই আলু চাষ হয়।
কেন পছন্দ : এর খোসা খুব পাতলা এবং ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও বেশ ঘন (firm) হয়। রান্নার সময় এটি সহজে গলে বা ভেঙে যায় না।
খাবারের কম্বিনেশন: এটি ইতালীয় স্টাইলের ফ্রাই, রোস্টেড পটেটো, এবং সবজির স্টু বা গ্নোচি (Gnocchi) নামক পাস্তা তৈরিতে বেশি পছন্দ করা হয়।
৩. Quebrada de Humahuaca Andean Potatoes (আর্জেন্টিনা)


উৎপত্তি ও ইতিহাস: আর্জেন্টিনার জুজুই প্রদেশের কুয়েব্রাদা দে হুমাউয়াকা উপত্যকায় হাজার বছর ধরে এই অ্যান্ডিয়ান আলু চাষ হয়ে আসছে। এটি ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, যেখানে আদিবাসীরা প্রাচীন পদ্ধতিতেই বিভিন্ন আকার ও রঙের এই আলু চাষ করেন।
কেন পছন্দ : এগুলো দেখতে অদ্ভুত, কোনোটি লম্বাটে, কোনোটি কুঁচকানো এবং বহুরঙা। এদের স্বাদ বেশ মাটির মতো (earthy) এবং টেক্সচার একেকটার একেক রকম হয়।
খাবারের কম্বিনেশন: এগুলো সাধারণত খোসাসহ সেদ্ধ করে বা পুড়িয়ে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আসাডো (বিফ বারবিকিউ) এবং বিভিন্ন মাংসের ঝোলের (Locro) সাথে পরিবেশন করা হয়।
৪. Nye Samsø kartofler (ডেনমার্ক)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: ডেনমার্কের সামসো (Samsø) দ্বীপের বসন্তকালীন নতুন আলু এটি। ডেনিশ সংস্কৃতিতে মে মাসের দিকে এই আলুর প্রথম ফলন আসা মানে বসন্তের আগমন উদযাপন করা। প্রথম লটের আলুগুলো চড়া দামে নিলামেও ওঠে।
কেন পছন্দ: এটি খুবই কচি, মিষ্টি এবং এর খোসা এতটাই পাতলা যে হাত দিয়ে ঘষলেই উঠে যায়। ডেনিশদের কাছে এর তাজা স্বাদ অত্যন্ত প্রিয়।
খাবারের কম্বিনেশন: ডেনমার্কে এটি কেবল হালকা সেদ্ধ করে, ওপরে প্রচুর মাখন এবং তাজা ডিল (Dill) পাতা ছিটিয়ে খাওয়া হয়। এটি স্মোকড স্যামন মাছ বা রোস্টেড শুয়োরের মাংসের সাথে দারুণ জমে।
৫. French Fingerling (ফ্রান্স)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফ্রান্সে এই জাতের আলুর বিকাশ ঘটে। এর আঙুলের মতো লম্বাটে আকারের কারণে একে “ফিঙ্গারলিং” বলা হয়। এর বাইরে লালচে খোসা এবং ভেতরে হালকা হলুদ অংশ থাকে।
কেন পছন্দ: এর টেক্সচার একদম মোমের মতো (waxy) মসৃণ এবং স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো। সালাদে দিলে এটি সুন্দর পিস হয়ে থাকে, গলে যায় না।
খাবারের কম্বিনেশন: এটি ফ্রেঞ্চ স্টাইলে রসুন এবং রোজমেরি দিয়ে ওভেনে রোস্ট করে খেতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হয়। এছাড়া ফ্রেঞ্চ আলুর সালাদ (Potato Salad) তৈরিতে এর জুড়ি নেই।
৬. Kennebec Potato (যুক্তরাষ্ট্র)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: ১৯৪১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA) এবং মেইন কৃষি পরীক্ষামূলক কেন্দ্রের যৌথ প্রচেষ্টায় এই হাইব্রিড জাতটি তৈরি করা হয়। এর নাম রাখা হয় কেনেবেক নদীর নামানুসারে।
কেন পছন্দ : এটি আকারে বেশ বড়, ডিম্বাকৃতির এবং এতে স্টার্চের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। রান্নার পর এটি বাইরে থেকে দারুণ মুচমুচে এবং ভেতরে একদম তুলতুলে নরম হয়।
খাবারের কম্বিনেশন: সারা বিশ্বে সেরা মানের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (French Fries) এবং পটেটো চিপস তৈরির জন্য কেনেবেক আলুকে এক নম্বরে রাখা হয়। বার্গার বা স্টেকের সাথে এই ফ্রাই সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়।
৭. Chuño (বলিভিয়া)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: এটি আসলে কোনো কাঁচা আলু নয়, বরং অ্যান্ডিজ পর্বতমালার (বলিভিয়া ও পেরু) এক প্রাচীন প্রক্রিয়াজাত আলু। ইনকা যুগেরও আগে থেকে তীব্র ঠান্ডায় আলুকে রাতে জমিয়ে এবং দিনে রোদে শুকিয়ে, পা দিয়ে চেপে সব পানি বের করে এই “ড্রাইড পটেটো” তৈরি করা হতো, যা বছরের পর বছর নষ্ট হয় না।
কেন পছন্দ: এটি চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার খাবার। শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এর স্বাদ বেশ কড়া এবং টেক্সচার চিবানোর মতো (chewy) হয়।
খাবারের কম্বিনেশন: খাওয়ার আগে একে পানিতে ভিজিয়ে নরম করতে হয়। বলিভিয়াতে এটি বিভিন্ন ঝাল মাংসের স্টু (Chairo), স্যুপ এবং পনিরের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়।
৮. Bintje (নেদারল্যান্ডস)

উৎপত্তি ও ইতিহাস: ১৯০৫ সালে ওলন্দাজ স্কুল শিক্ষক কর্নেলিস ক্রুইজ দ্বারা নেদারল্যান্ডসে এই জাতটি উদ্ভাবিত হয়। তিনি তার এক প্রিয় ছাত্রীর নাম “বিন্টজে” (Bintje)-র নামানুসারে এর নামকরণ করেন। এটি ইউরোপের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় জাত।
কেন পছন্দ : এর হালকা হলুদ খোসা এবং চমৎকার ক্রিমি টেক্সচারের জন্য এটি অত্যন্ত বহুমুখী। এটি সেদ্ধ, বেক বা ম্যাশ—সবকিছুতেই পারফেক্ট।
খাবারের কম্বিনেশন: বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত “Vlaamse frieten” (বেলজিয়ান ফ্রাই) তৈরিতে বিন্টজে আলু ব্যবহার করা হয়, যা মেয়োনেজের সাথে খাওয়া হয়। এছাড়া এটি দিয়ে দারুণ পটেটো ম্যাশ (Mashed Potatoes) তৈরি করা হয়।